দল গঠনের নামের প্রভাব বিস্তারে পছন্দের তালিকা লন্ডনে পাঠিয়ে সমালোচিত মির্জা ফখরুল

0
103
18.03.2019

 

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুঞ্জন উঠেছে, দল পুনর্গঠনের নামে নতুন করে চাঁদাবাজি করতে বিএনপিকে করায়ত্ত করার কৌশলে কাজ করছেন মির্জা ফখরুল। পাশাপাশি বিএনপিতে একক আধিপত্য বিস্তার করতে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন কমিটিতে আগাম সদস্যপদ দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৬ মার্চ) দলের প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিএনপির পুনর্গঠনের বিষয়ে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে কৃষক দলের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপিকে রাজনীতির মাঠে ফিরতে হলে বর্তমান কমিটিগুলো বাতিল করে নতুনদের নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠন করতে হবে। সেক্ষেত্রে তুলনামূলক আগ্রাসী এবং আপোষহীনদের স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটিসহ সকল ইউনিটের কমিটিতে স্থান দিতে হবে। তবেই হয়তো বিএনপির ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে বাছ-বিচারহীনভাবে নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, তাতে বিএনপির পুনর্গঠন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিএনপিকে দাবিয়ে রাখতে কিছু মহলের হয়ে কাজ করছেন আমাদেরই কিছু শ্রদ্ধাভাজন নেতা। তারা চেষ্টা করছেন নিজ নিজ স্বার্থ ঠিক রেখে বিএনপিকে বিক্রি করতে। আমি শুনেছি, দলে প্রভাব বিস্তার করতে পছন্দের ব্যক্তিদের বিভিন্ন কমিটিতে পদ দেয়ার জন্য তালিকা লন্ডনে পাঠিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

তিনি আরো বলেন, আসলে বিএনপির পুনর্গঠন নিয়ে যা বলা হচ্ছে, তা আমার কাছে আইওয়াশের মতো মনে হয়েছে। কমিটি গঠন ও দল গোছানোর নামে নতুন করে চাঁদাবাজির সংস্কৃতির ডামাডোল বাজতে শুরু করায় খুশি হয়েছেন কিছু সিনিয়র নেতা। তারেক রহমানকে অর্থ-বিত্তের বাইরে গিয়ে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশদ চিন্তা করতে হবে। বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে হলে এসব পায়তারা, চাঁদাবাজি এবং অপরাজনৈতিক কৌশল থেকে বের হতে হবে।

এই বিষয়ে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংস্কারপন্থী নেতা মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপিকে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর কৌশল রপ্ত করতে হবে। এখানে অর্থ-বিত্ত বা প্রভাবকে প্রাধান্য দেয়া ঠিক হবে না। দলের সংস্কার আমিও চাই। কিন্তু সেই সংস্কার হতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। এখন শুনছি, নতুন নতুন নেতারা পল্টন পার্টি অফিসে আসা-যাওয়া শুরু করেছেন। মির্জা ফখরুলকে দামি দামি উপহার দেয়ারও গুঞ্জন শুনেছি। অনেকেই লন্ডনে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। বিষয়গুলো আমাদের জন্য অশনি সংকেত। লন্ডন নেতৃত্বকে বিশদভাবে চিন্তা করতে হবে। বিএনপির পদ বিক্রির বস্তু নয়।  দলের পদ যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে অর্জন করতে হয়। বিএনপিকে আওয়ামী লীগের মতো রাজনীতি শিখতে হবে। যে রাজনীতি জনকল্যাণের, যা সর্বজন গৃহীত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here