বিএনপির নামে জামায়াতের সহায়তা চেয়ে সমালোচিত জাফরুল্লাহ! দায় নিচ্ছে না ঐক্যফ্রন্ট

0
107

নিউজ ডেস্ক : বিএনপি যত বড় দলই হোক না কেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা একলা চলতে পারবে না বলে মনে করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম সংগঠক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

শনিবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর একটি মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, বিএনপি জিয়াউর রহমানকে সম্মান করলেও, তার কথাকে সম্মান করে না। অহংকার ভালো নয়। অহংকারের জন্য বিএনপির আজকে বেহাল দশা হয়েছে। রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে বিএনপিকে এখন শত্রু-মিত্র’র বাছ-বিচার বাদ দিয়ে মাঠে নামতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে বুকে আগলে নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে।

এদিকে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিভ্রান্তিকর আহ্বানে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ঐক্যফ্রন্ট তথা ২০ দলীয় জোটের রাজনীতিতে। বিএনপিকে পাশে নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ায় জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মাধ্যমে ২০ দলীয় জোটের দলগুলোর সহায়তা চাইছেন ড. কামাল। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আহ্বানে জামায়াত নেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এমন আহ্বানকে স্ববিরোধী এবং স্বার্থপরতার চূড়ান্ত রূপ হিসেবে বিবেচনা করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে বড় বড় কথা বলে এখন পস্তাতে হচ্ছে ঐক্যফ্রন্টকে। আসলে তাদের রাজনীতি গোল টেবিলে সীমাবদ্ধ। মস্তিষ্কের জোগান শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন বিএনপি-জামায়াতের কাছে সাহায্য চাইছেন ড. কামাল। বিএনপিকে উদ্দেশ করে ঐক্যফ্রন্ট এখন পরোক্ষভাবে জামায়াতের কাছে ধরনা দেয়ার চেষ্টা করছে। নিজেদের অপকর্মে নিজেরাই এখন অনুতপ্ত তারা।

তিনি আরো বলেন, সেজন্য আবার জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ভাড়া করা হয়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিজেদের সীমাবদ্ধতা আঁচ করতে পেরে এখন সুর নরম করা শুরু করেছে ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্ট প্রকাশ্যে জামায়াতের বিষয়ে ক্ষমা চাইলেই আমরা সহায়তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে আমি বিএনপির সহায়তা চেয়েছি। এখানে জামায়াতের প্রসঙ্গ উহ্য ছিল। আসলে জামায়াতকে নিয়ে প্রথম দিকে চাপ থাকলেও এখন আর খুব বেশি চাপ নেই। তাছাড়া জামায়াত দলগত ভাবে নিষিদ্ধ হলেও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তো আর নিষিদ্ধ নন। তারা বিএনপির সঙ্গে বা অন্যান্য দলের হয়ে মাঠে নেমে আন্দোলন করতে পারেন। জামায়াতকে নিয়ে এক ধরনের রাজনৈতিক খেলা শুরু হয়েছে। দেশের স্বার্থে জামায়াতকে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। সেলক্ষ্যে বিএনপি-জামায়াতের সাহায্য চেয়ে নিশ্চয়ই আমি ভুল করিনি।

এই বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা শুরু থেকেই জামায়াতের সহায়তা নিতে রাজি হইনি। জামায়াতকে সঙ্গ দিয়ে দেশবিরোধী তকমা গায়ে লাগাতে আমরা রাজি নই। ড. কামালও জামায়াত বিরোধী। জামায়াতকে নিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতামত একান্ত ব্যক্তিগত। এটির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের কোন সংযোগ নেই। আসলে উনার বয়স হয়েছে। কখন কি বলেন তার ঠিক থাকে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here