লাপাত্তা সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, ধুঁকছে বিএনপি!

0
124

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে উপজেলা নির্বাচন বর্জন করায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের দেখা পাচ্ছেন না দলটির নেতা-কর্মীরা। ব্যক্তিগত সমস্যা, ব্যবসায়িক ঝামেলা এবং মামলা-মোকদ্দমার অজুহাতে দলের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকছেন দলটির সিনিয়র নেতারা।

এছাড়া যারাও টুকটাক কথা বলছেন তারাও একটি চক্রের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ফাঁকা বুলি আওড়িয়ে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে দূরত্ব বজায় রেখে ধীরে চলা নীতির কারণে বিএনপির দেশব্যাপী অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের উদাসীনতা এবং স্বার্থের রাজনীতির কারণে বিএনপি রাজনৈতিক অধঃপতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতা জহিরউদ্দিন স্বপন। তার মতে, বিগত এক দশকে বিএনপির না ঘুরে দাঁড়ানোর অনেকগুলো কারণ রয়েছে। প্রথমত, দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ মন থেকে চান না যে দেশের রাজনীতিতে বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখুক। বিগত এক দশকে দলের অনেক সিনিয়র নেতাদের বিভিন্ন সময়ের কার্যক্রমে এমন সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। রাত-বিরাতে বিএনপির নেতারা ক্ষমতাসীনদের দরবারে গিয়ে সমবেত হন। মামলা-হামলা থেকে বাঁচতে নিজেদের রাজনৈতিক ইমান বিক্রি করে দিয়েছেন তারা। তাদের দ্বিচারিতার কারণে দলের তৃণমূলে হতাশা ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, দলের সাংগঠনিক কাজে সিনিয়র দেখা মেলা ভার। ব্যক্তিগত ব্যস্ততা, অসুস্থতা, ব্যবসায়িক কাজের অজুহাতে তারা দলের কাজে অংশ নিতে চান না। কার কথা বলবো বলেন, মির্জা আব্বাস তো ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত। মওদুদ সাহেব ক্লায়েন্ট সামলাতে ব্যস্ত। দলের বেশিরভাগ নেতা আইনি পেশায় থাকায় তারা দলের চিন্তা বাদ দিয়ে ক্লায়েন্টদের কাজে বেশি সময় দেন। এছাড়া দলের বেশিরভাগ নেতা জ্বরা-বার্ধক্যে জর্জরিত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এতো ব্যর্থতা, এতো সমালোচনার পরেও কিন্তু তারা পদ ছাড়তে নারাজ। বলা চলে, বিএনপি তো এখন সিনিয়রদের দয়া-দাক্ষিণ্যে চলে। বিএনপি যদি আগামীতে বড় ধরণের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় তবে মির্জা ফখরুল, আব্বাস ও মওদুদদের দায় নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here