বিএনপির গণঅনশন নিয়ে প্রশ্ন

0
104

৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির পর এক প্রকার ঝিমিয়ে পড়েছে বিএনপির রাজনীতি। দলীয় মতবিরোধ ও নেতৃত্বে আস্থাহীনতার কারণে বলার মতো কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারছে না বিএনপি। বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি রুটিনমাফিক কিছু বিচ্ছিন্ন সংবাদ সম্মেলন, বিভিন্ন সভা সমাবেশে আর প্রতীকী আন্দোলন কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি বড় অংশ ৬ ঘন্টার প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছে। বিএনপির এই প্রতীকী অনশন নিয়ে নানা রকম ক্ষোভ ও আলোচনা সমালোচনা চলছে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে।

খালেদার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ৭ এপ্রিল, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর  ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গণঅনশন শুরু করে বিএনপি। এরপর বিকেলে ৪টা ৩৮ মিনিটে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদ বিএনপি নেতাকর্মীদের পানি পান করিয়ে তাদের অনশন ভঙ্গ করান।

বিএনপির এই প্রতীকী গণঅনশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গণঅনশনে অংশ নেওয়া খোদ বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতা। তাদের মতে এরকম গণঅনশন করে কোনো লাভ হবে না। এরকম হাস্যকর কর্মসূচির মাধ্যমে দিন দিন বিএনপি দেশের মানুষের কাছে উপহাসে পরিণত হতে চলেছে।

অনশনে অংশ নেওয়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, “আপনারা এমনি হলের ভেতর আগামী একশ বছর গণঅনশনই বলুন আর আমরণ অনশনই বলুন, এসব করে শেখ হাসিনাকে নড়াতে পারবেন না। শেখ হাসিনাকে নড়াতে হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। এরকম প্রতীকী কর্মসূচির কারণে ধীরে ধীরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনোবল হারিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে গণঅনশনের নামে গণতামাশার পরিবর্তে গণআন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাশা করে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে অবিলম্বে গণআন্দোলন কর্মসূচি রাজপথে বাস্তবায়ন করতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here