মাহি বি চৌধুরী পরিচালিত `চুরি` নাটকের অন্তরালে

0
107

মাহি বি চৌধুরী পরিচালিত `চুরি` নাটকের অন্তরালে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০১৯

   

নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে কিছু মৌসুমি রাজনীতিবিদেরআবির্ভাব হয় রাজনীতিতে। যারা জনগণেরদোরগোড়ায় না গিয়ে বিলাসবহুল হল রুমে বিভিন্নধরণের সভা সেমিনারে মুখরোচক কথা বলতে বেশিপছন্দ করেন। জনবান্ধব রাজনীতির বদলে তাদের এসেমিনার বান্ধব রাজনীতির প্রভাব ভোটের বাক্সেপড়ে। এসব মৌসুমি সেমিনার বান্ধব রাজনীতিবিদদেরনির্বাচনে জামানত রক্ষা করা নিয়ে টানাটানি শুরু হয়।তেমন একজন ‘সেমিনার টক শো বান্ধব রাজনীতিবিদ’হচ্ছেন মাহী বি চৌধুরী। বিকল্পধারা নামক একআনকোরা রাজনৈতিক দলের অন্যতম নেতা মাহী বিচৌধুরী।

তিনি ১৯৯২ সালের আগস্ট মাসে স্বাধীনতাবিরোধী দলবিএনপিতে যোগ দেয়া এক ব্যর্থ রাজনীতিবিদ।বিএনপিতে যোগদান করলেও ২০০৪ সালে বিএনপিথেকে বিতাড়িত হয়ে নিজেই একটি রাজনৈতিক দলগঠন করেন। নতুন দলের নাম দেন বিকল্পধারাবাংলাদেশ। তবে তিনি বিকল্পধারায় থেকে একাদশজাতীয় নির্বাচনকে সামনে জনগণের সামনে নিয়েআসেন প্ল্যান এ। যেখানে তিনি বিএনপির সাথেআঁতাত করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।তবে মাহির অতীত কুকর্ম ও কর্মকাণ্ডের কথা চিন্তাকরে সেই পরিকল্পনায় ছাই ফেলে দেয় বিএনপি।বিএনপি থেকে বাধাপ্রাপ্ত হতে নতুন করে সামনে নিয়েআসেন প্ল্যান বি। যেখানে তিনি বিএনপিকে বাদ দিয়েআঁতাত করতে চেয়েছিলেন মানবতাবিরোধীঅপরাধের সঙ্গে জড়িত দল জামায়াতে ইসলামেরসঙ্গে। তবে সেক্ষেত্রের ব্যর্থ মাহি বি চৌধুরী। সবদিকদিয়ে ব্যর্থ মাহি চেয়েছিলেন সরকারের বিরুদ্ধে আঁতাতকরতে। একপর্যায়ে তিনি সেখানে ব্যর্থ মুখের দেখাপেয়েছিলেন। তবে মাহি সেখানেই দমে যাননি।

সম্প্রতি ব্যক্তিগত কাজে যুক্তরাষ্ট্রে যান বিকল্পধারারপ্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ারপর হঠাৎ খবর পাওয়া যায় মাহি বি চৌধুরীররাজধানীর মধ্য বাড্ডার ট্রপিকাল মোল্লা টাওয়ারেররাজনৈতিক কার্যালয়ে চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিলো মাহির বিভিন্ন গবেষণার দলিল,কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসম্বলিত হার্ড ডিস্ক, র‌্যামসহ কম্পিউটারের অন্যান্যযন্ত্রাংশ। চুরির ঘটনায় ইতোমধ্যে বাড্ডা থানায় মামলাহয়েছে। তবে মাহির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারইঅনুপস্থিতে অফিসের প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গীরআলম, দপ্তর সম্পাদক ওয়াসিমুল ইসলামের নিয়মিতযাতায়াত ছিলো।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বেশ কিছুতথ্য উঠে এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অফিসেরচাবি ব্যবহারের কোনো নিয়মতান্ত্রিকতা ছিলো না। চাবিদুইটি রাখারও কোনো নির্দিষ্টতা ছিলো না। তদন্তে জানাযায়, অফিসের চাবি ভেঙ্গে যাওয়ার পর অফিসসহকারী ইব্রাহিম ও প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আরোদুইটি নকল চাবি বানিয়েছিলেন। এতে করে বুঝা যায়নকল চাবি আরো বানানো হয়েছিলো সেই সাথে চাবিরএক্সেস অনেকের কাছেই ছিলো। প্রতিদিন অফিসেজাহাঙ্গীরের যাতায়াত থাকলেও চুরির ঘটনার দিনজাহাঙ্গীর অফিসে আসেননি।

তবে পুরো ঘটনা ও পুলিশি তদন্ত বিশ্লেষণ করলে দেখাযায়, মাহী বি চৌধুরী নিজেই কারোর সহযোগিতায় এইঘটনা ঘটিয়েছেন। জাহাঙ্গীর ও ওয়াসিমের মধ্যকারবিরোধকে কেন্দ্র করে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।এছাড়াও মাহি বি চৌধুরী রাজনৈতিক দর্শনেওআওয়ামী চেতনার বিরোধী এবং বিএনপির প্রতি ঝোঁকতার সবসময় পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে তিনি তারেকজিয়ার বিরোধিতা করে বিএনপি থেকে সাড়া নাপাওয়ায় তিনি তার প্রেক্ষাপট পরিকল্পনায় পরিবর্তনআনেন।

এদিকে মাহি বি চৌধুরী এই ঘটনার দায় সরকারেরউপর চাপিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টাকরলেও সকল বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে,বিএনপিপন্থী ওয়াসিমুল ইসলাম ও মো. জাহাঙ্গীরআলম – এই দুই ব্যক্তিকে বিকল্পধারায় না রাখার সিদ্ধান্তকে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘটনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে মাহী বি চৌধুরীর নির্দেশেই এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here