ঢালারচর ইউনিয়নের পরিচিতিঃ

0
81

লেখকঃ মোঃ রিজাউল করিম সজল

 

ঢালারচর এর ইতিকথাঃ পদ্মা ও যমুনা নদী দ্বারা বেষ্টিত ঢালারচর ইউনিয়ন। এর ইতিহাস ও অতীত ঐতিহ্য বলতে একপাড় ভাঙ্গে তো আর একপাড় গড়ে। দুর্গম এলাকা বলে পরিচিত চিকচিক বালির অববাহিকায় গড়ে ওঠে চর’টি। ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত এলাকাটিতে ছিলনা কোন বিদ্যুৎ,পাকা রাস্তা, রেল সংযোগ, এবং ব্রিজ। তবে সারা এলাকা খুজলে দু-একটা কালভার্টের সন্ধান পাওয়া যেত। মহিষের গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি এবং বাইসাইকেল ছিল যানবাহনের মাধ্যম। কেউ অসুস্থ হলে কাঠের তক্তা দিয়ে বাগ বানিয়ে দুইজন কাঁধে করে নিয়ে যেত। প্রাইমারীর গন্ডি পেরোলেই হাইস্কুলের জন্য যেতে হত কাজিরহাট, রতনগঞ্জ, অথবা রাজবাড়ী।ঢালার চরে বাড়ি হওয়াতে অনেকেই আমাদের কে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে থাকতেন(যেটা এখনো চলমান)। এখন দিন বদলে গেছে, বদলে গেছে ঢালারচর এর মানুষ। বদলে গেছে ঢালারচর এর অতীত, আর নেই সেই ধু ধু মরুভূমির মতো চিকচিক বালি, চিকচিক বালি গুলো সব এখন সোনায় পরিণত হয়ে গেছে। ০২ শতাংশ জমির দাম এখন ০১ লক্ষ টাকাও আছে ঢালারচরে (জায়গা বিশেষ)। শিক্ষা-দীক্ষা, কর্মে কোন কিছুতেই এখন আর পিছিয়ে নেই ঢালারচর এর মানুষ। হ্যাঁ যদি বলেন রেমিটেন্স যোদ্ধা তাহলে ঢালারচর এর সাথে তুলনা করে দেখতে পারেন! সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, কাতার সহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০০ মানুষ ঢালারচর থেকে বিভিন্ন দেশে আছে। এখানে শতভাগ মানুষ মুসলিম গোত্রের এবং শতভাগ ভিক্ষুক মুক্ত এলাকা ঢালারচর। Y-প্যার্টানে সেতু হলে ঢালারচরে কল-কারখানা খুব দ্রুত গতিতে গড়ে উঠবে। কারণ হিসেবে এর দুপাশেই নদী যেটা কল-কারখানার জন্য দরকার হয়।এছাড়াও রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে দর্শনীয় পিকনিক স্পট হবে ঢালারচর ইনশাআল্লাহ। ঢালারচর নিয়ে যাদের নেতিবাচক মন্তব্য শুধু তাদের বলি, রাতের শেষে দিন, অন্ধকার আজীবন থাকে না আলো একসময় দেখা দেয় !

ঢালারচর আয়তনঃ ৩৮.০৭ বর্গ কিলোমিটার জনসংখ্যাঃ ২১৩১৭ জন(প্রায়)। ঘনত্বঃ ৫৫৯.৯৪ জন (প্রতি বর্গকিলোমিটারে) ভোটার সংখ্যাঃ ১১,০০৪ জন (প্রায়)। নির্বাচনী এলাকাঃ ৬৯ পাবনা-২ (বেড়া-সুজানগর) শিক্ষার হারঃ ৩৮.৪৪% (প্রায়) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ০১(এক) টি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ০৯ (নয়) টি, বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ০২(দুই) টি, মাদরাসা ০১(এক) টি। কমিউনিটি ক্লিনিকঃ ০৩ (তিন) টি। হাসপাতাল/স্বাস্থ্য কেন্দ্রঃ ০১ (এক) টি। ডাকঘরঃ ০১ (এক) টি। নদীঃ ০২ (দুই) টি (পদ্মা-যমুনা) হাট/বাজারঃ ০৩ (তিন) টি। পাকা রাস্তা : ২২ (বাইশ) কিলোমিটার (প্রায়)। বিদ্যুতায়িত এলাকাঃ শতভাগ বিদ্যুৎ। আবাদী জমিঃ ২,৩০০ হেক্টর(প্রায়)। দশণীয় স্থানঃ রেল স্টেশন, কাশেম মোড়(নারাদা) যমুনা নদীর পাড়, একশত একর কলাবাগান, চরদূর্গাপুর ও কোমারপুর খানকা শরীফ এবং বেড়ীবাঁধ বেষ্টিত বাবলা বাগান। আবাদী জমিঃ ২,৩০০ হেক্টর(প্রায়)। কৃষিঃ ধান, পাট, বাদাম, মাশকালাই, খেসারী কালাই, গম, পটল, মচির, পিয়াজ, রসুন ইত্যাদি ফসল উৎপন্ন হয়।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সবশেষে আমি গর্বিত, আমি ঢালারচর এর সন্তান।

মোঃ রিজাউল করিম সজল উপ-সহকারী প্রকৌশলী, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here