ছয়টি কোচ ঢাকায় এসেছে, প্রতিটি ট্রেনে চড়বে ১,৭৩৮ যাত্রী

0
13

 

ঢাকায় চালানোর জন্য মেট্রোরেলের এক সেট ট্রেন ঢাকায় এসেছে। বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে ট্রেনবাহী প্রথম বার্জটি উত্তরায় মেট্রোরেলের ডিপোর কাছে নদীর জেটিতে ভিড়ে। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আরেকটি বার্জ জেটিতে আসে। এ দুই বার্জ দিয়েই এক সেট ট্রেনের ছয়টি কোচ মোংলা বন্দর থেকে ঢাকায় এল। বৃহস্পতিবার সকালে কোচগুলো খালাস করে মেট্রোরেলের ডিপোতে নিয়ে আসার কথা।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অধীনে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প (লাইন-৬) বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপান থেকে ট্রেনের কোচের পাশাপাশি তা বার্জ থেকে নামানোর যন্ত্রও আনা হয়েছে। বুধবার এসব যন্ত্র খালাস করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে কোচগুলো নামানোর কাজ শুরু হবে। প্রথম দিন চারটি কোচ খালাস করে ডিপোতে আনা সম্ভব হবে। শুক্রবার সকালে বাকি দুটি কোচ নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মেট্রোরেলের কোচগুলো তৈরি হয়েছে জাপানে। এরপর বড় জাহাজে ভরে জাপানের কোবে বন্দর থেকে গত ৪ মার্চ যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশের মোংলা বন্দরে পৌঁছায় ৩১ মার্চ। এরপর শুল্ক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢাকার পথে বার্জে করে যাত্রা করে। কোচগুলো পৃথক পৃথক আচ্ছাদন দিয়ে মুড়িয়ে আনা হয়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্র বলছে, কোচগুলো ডিপোতে এনে আচ্ছাদন খোলা হবে। এরপর সেখানে প্রতিটি কোচের ১৯ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লাইনে তোলা হবে। এই কাজে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এই কাজের জন্য ইতালি থেকে একধরনের যন্ত্র আনা হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব এম এ এন সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, কোচগুলো লাইনে তোলার পর একটা অনুষ্ঠান করা হবে। এতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং জাপানের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এরপর পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে। এ জন্য ডিপো থেকে পল্লবী পর্যন্ত মেট্রোরেলের লাইন, সংকেতব্যবস্থা ও স্টেশন অবকাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছে।

মেট্রোরেলের প্রথম ছয়টি কোচ এসেছে জেটিঘাটে। বুধবার বিকেলে উত্তরার রুস্তমপুর ঘাটে

প্রকল্প নথি অনুসারে, জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়ামকে ২৪ সেট ট্রেন নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০১৭ সালে। দুই পাশে দুটি ইঞ্জিন আর চারটি কোচের সমন্বয়ে ট্রেনের সেটগুলো তৈরি হচ্ছে জাপানে। এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়েছে পাঁচ সেট ট্রেন, যার প্রথমটি দেশে এসে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় সেট জাপান থেকে ১৫ এপ্রিল রওনা হওয়ার কথা। সেটি পৌঁছাতে পারে আগামী ১৬ জুন। আর তৃতীয় সেট ১৩ জুন রওনা দিয়ে ১৩ আগস্ট পৌঁছাতে পারে। বাকি দুটি সেটের আসার সময়সীমা এখনো ঠিক হয়নি।

সব মিলিয়ে ২৪ সেট ট্রেনের দাম পড়ছে ৩ হাজার ২০৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে এসব ট্রেন বাংলাদেশে আনার পর মোট খরচ হবে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ট্রেনগুলোয় ডিসি ১৫০০ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা থাকবে। স্টেইনলেস স্টিল বডির ট্রেনগুলোয় থাকবে লম্বালম্বি সিট। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দুটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বগির দুই পাশে থাকবে চারটি করে দরজা। জাপানি স্ট্যান্ডার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা-সংবলিত প্রতিটি ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে ১ হাজার ৭৩৮ জন। ভাড়া পরিশোধের জন্য থাকবে স্মার্ট কার্ড টিকিটিং ব্যবস্থা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here